ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৭টা থেকেই জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
টাকার বিনিময়ে ভোট দেবে না জনগণ: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
যশোর-৩ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে যশোর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “জনগণ টাকার বিনিময়ে তাদের ভোট নামক পবিত্র আমানতের খেয়ানত করবে না। সাধারণ মানুষের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল টাকার বস্তা নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করেছিল। তবে সচেতন জনগণ তা প্রতিহত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অমিত আরও বলেন, “যারা মুখে সৎ শাসনের কথা বলে, অথচ অসৎ উপায়ে নির্বাচিত হতে চায়, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
বর্তমান পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। কোথাও বোমাবাজি বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। শেষ পর্যন্ত এই পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোটের পরিবেশে সন্তুষ্ট জামায়াত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের
যশোর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শহরের খোলাডাঙ্গা গাবতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি দিনের প্রথম ভোট প্রদান করেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ভোট শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঈদের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাররা কেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন।
দিনের প্রথম ভাগের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার ও উৎসবমুখর। ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারছেন।”
জনগণের রায়ে একটি সুন্দর ফলাফল আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অব্যাহত
সকাল থেকে যশোরের বিভিন্ন কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় পর এমন স্বতঃস্ফূর্ত ভোটার উপস্থিতি স্থানীয়দের মাঝেও স্বস্তি ফিরিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভোটগ্রহণের শেষ সময় পর্যন্ত এ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।


