দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে মাতৃভূমিতে ফিরেই এক ভিন্নধর্মী ও আধ্যাত্মিক বার্তা দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর পূর্বাচলে ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’তে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার মাত্র ১৬ মিনিটের বক্তৃতাই এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।
বক্তৃতার শুরু থেকেই ইসলামী ভাবধারা, আল্লাহর প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা এবং বিনয়ের প্রকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বক্তব্যের সূচনাতেই তিনি পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন,
“রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমত ও আপনাদের দোয়ায় আজ আমি আমার মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।”
পুরো বক্তৃতাজুড়ে তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’, ‘পরওয়ার দিগার’, ‘রহমত’, ‘রাব্বুল আলামিন’—এ ধরনের ইসলামী পরিভাষা গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যবহার করেন, যা শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
✦ মোনাজাতের ভঙ্গিতে দেশবাসীর জন্য দোয়া
বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে দুই হাত তুলে দেশবাসীর কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন তারেক রহমান। সেই মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসে এক আবেগঘন নীরবতা। তিনি বলেন,
“আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ ও এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, ইনশাআল্লাহ আমরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।”
✦ ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার
তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানান, ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবেন, তারা যেন নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফের আদর্শ অনুসরণ করেন।
তিনি বলেন,
“ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাই মিলে নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করবো।”
এই বক্তব্য ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর সাড়া ফেলেছে।
✦ নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া: ‘এক নতুন তারেক রহমান’
বক্তৃতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইউটিউবে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। হাজারো ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন—বিনয়, আল্লাহভীতি ও শান্ত ভাষায় উপস্থাপিত এই বক্তব্য যেন এক **“নতুন তারেক রহমান”**কে তুলে ধরেছে।
অনেকে তার ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বক্তব্যকে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের একটি দায়িত্বশীল রূপরেখা হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক আক্রমণাত্মক ভাষা পরিহার করে তিনি যে শৃঙ্খলিত, শান্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেছেন, তা প্রশংসিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
✦ তরুণদের হৃদয়ে নাড়া
সম্প্রতি শহীদ হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ স্মরণ করে ইনসাফের দাবি তোলেন তারেক রহমান। এতে তরুণ প্রজন্ম বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত হয়। বক্তৃতার শেষে তিনি সমবেত জনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দেন—
“সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ।”
✦ বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান যে বিনয়, দেশপ্রেম ও ইসলামী নৈতিকতার সমন্বিত বার্তা দিয়েছেন, তা সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর কাছে ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। ইসলামের নৈতিক শিক্ষা, মানবিকতা ও ন্যায়বিচারের কথা তুলে ধরে তিনি রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।


