ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার ৬টি আসনে মোট ২৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের অন্তত ৮ শতাংশ না পাওয়ায় তাদের জামানত টেকেনি বলে জানিয়েছেন জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আইন অনুযায়ী কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের ৮ শতাংশের কম পেলে তার জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়। এবারের নির্বাচনে যশোরের প্রতিটি আসনেই একাধিক প্রার্থী এই সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।
যশোর-১ (শার্শা)
এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৬২৬। ৮ শতাংশ হিসেবে প্রয়োজন ছিল ২৭ হাজার ৪৫৩ ভোট।
৮ শতাংশের কম ভোট পাওয়ায় ২ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন—
- জাতীয় পার্টি-র লাঙ্গল প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (১,৩৯৮ ভোট)
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-র হাতপাখা প্রতীকের বক্তিয়ার রহমান (১,৭৬৮ ভোট)
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা)
মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৫। ৮ শতাংশ ভোট ৪২ হাজার ৭৪৮।
এ আসনে ৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী (৫,৭৮১)
- বাসদ-র ইমরান খান (৪৭২)
- স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম (১৮৮)
- স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান (৩৮৯)
- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-র শামসুল হক (২৩৩)
- এবি পার্টি-র রিপন মাহমুদ (৪১৬)
যশোর-৩ (সদর)
মোট প্রদত্ত ভোট ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৮। ৮ শতাংশ ভোট ৫১ হাজার ৯৬২।
৪ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন—
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (১৩,৩২২)
- জাতীয় পার্টির খবির গাজী (৩,৪০৪)
- জাগপা-র নিজামুদ্দিন অমিত (১,৭৭২)
- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র রাশেদ খান (৭৫৩)
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর)
মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৮০। ৮ শতাংশ ভোট ৪১ হাজার ৪২২।
৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন—
- স্বতন্ত্র প্রার্থী এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ (৭৯৭)
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন (১১,৮৩৮)
- খেলাফত মজলিস-র আশেক এলাহী (৩০১)
- গণঅধিকার পরিষদ-র আবুল কালাম গাজী (২৫৭)
- জাতীয় পার্টির জহুরুল হক (১,৭৫১)
- বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি-র সুকৃতি কুমার মন্ডল (১,৫১০)
যশোর-৫ (মণিরামপুর)
মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩২০। ৮ শতাংশ ভোট ৩৫ হাজার ৭৯০।
৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে—
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়নাল আবেদীন (৪,৪০০)
- জাতীয় পার্টির এম এ হালিম (২,২৪৫)
- স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান (২,১০৩)
যশোর-৬ (কেশবপুর)
মোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫০৮। ৮ শতাংশ ভোট ২২ হাজার ৩১৩।
৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে—
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম (১,২৮৫)
- জাতীয় পার্টির জিএম হাসান (৯৯০)
- আমার বাংলাদেশ পার্টি-র মাহমুদ হাসান (৬৭২)
সব মিলিয়ে যশোরের ৬টি আসনে ২৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচনে ৮ শতাংশ ভোটের বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ করতে না পারায় তারা এই পরিস্থিতির মুখে পড়েন। এবারের নির্বাচনে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তির চিত্র নিয়ে জেলায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।


