রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে যশোরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
বুধবার সকাল থেকেই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে ভোটের সরঞ্জাম কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন।
নিরাপত্তা জোরদার করতে জেলার শতভাগ
ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭১টি কেন্দ্রকে ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৩০২টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।
সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে—১২৮টির মধ্যে ৯৩টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। এরপর যশোর-১ (শার্শা) আসনে ১০২ কেন্দ্রের অর্ধেকই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১২,৩৮,৯০৬ জন, নারী ১২,৩২,৯৭৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৫ জন। ৮২৪টি কেন্দ্রে মোট ৪,৬৭৯টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। দায়িত্বে থাকবেন ৮২৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪,৬৭৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৯,৩৫৮ জন পোলিং অফিসার।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ১৩ জন করে নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে তিনজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি দুই শতাধিক স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি আসনে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
যশোরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, “এবারই প্রথমবারের মতো জেলার শতভাগ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।” তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে আনসার, পুলিশ, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
সব মিলিয়ে জেলার ছয়টি আসনে ভোট ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় ১৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত থাকবেন। যশোরে ১১ জন স্থানীয় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি ঢাকা থেকে আসা আরও ৪০ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি আসনে দুইজন করে মোট ১২ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও মাঠে থাকবেন।


