ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ব্যাপক চিরুনি অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাত থেকে এ বিশেষ অভিযান শুরু হয়।
রাতভর অভিযানে ধুলগ্রাম, ফুলতলা, নিয়েরি ঘাট, সুইস গেট সংলগ্ন এলাকা, সিদ্ধিপাশা, পেরুলি, কালিয়া, গুস্তগ্রাম ও দামোখালীসহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় টহল ও তল্লাশি চালানো হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সহযোগী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন সুলতান গাজী (৩৪)-কে আটক করতে সিদ্ধিপাশা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তিনি কুখ্যাত ডাকাত নেতা গুফরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তবে অভিযানের আগেই তিনি পালিয়ে যান।
তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ককটেল, একটি চাইনিজ কুড়াল, স্টিলের পাইপসহ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গুফরান চক্র গরু বিক্রির টাকা, ব্যাংক থেকে তোলা অর্থ ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে অর্থ ছিনতাই করত।
এ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে রোমেন গ্যাজা (সিদ্ধিপাশা জিয়ালতলা)-র বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তাকে চক্রটির তথ্যদাতা হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
একই রাতে দামোখালী এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তুহিন (৩৫)-কে ধরতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে টাকা আদায় করেছিলেন। তবে অভিযানকালে তাকেও আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভয়নগর আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মাহফুজের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা রোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


