যশোরে শীত মৌসুম ঘনিয়ে আসতেই খেজুর রস, গুড় ও পাটালি উৎপাদনে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন গাছিরা। জেলায় সবচেয়ে বড় খেজুর গুড়ের হাট বসে যশোর সদরের রূপদিয়া, বাঘারপাড়ার খাজুরা, মণিরামপুর, কেশবপুর এবং মণিরামপুরের রাজগঞ্জ এলাকায়। এখানকার গুড়-পাটালি সারা দেশে জনপ্রিয় হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এসব হাট থেকে বিপুল পরিমাণে পণ্য ক্রয় করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন।
গাছি ও স্থানীয় কারিগরদের হাতে তৈরি পাটালির সুনাম বহুদিনের। দেশজুড়ে এর চাহিদা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি গাছিদের কাছে অর্ডার দিয়ে পাইকারি মূল্যে পণ্য সংগ্রহ করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইনেও এই পণ্য বিক্রি বাড়ছে।
২০২২ সালে চৌগাছার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বর্তমান যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য রক্ষায় একাধিক উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে ছিল খেজুর গুড়ের মেলা আয়োজন, গাছি প্রশিক্ষণ, সমবায় সমিতি গঠন এবং খেজুরগাছ সংরক্ষণ। তাঁর আবেদনেই ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি যশোরের খেজুর গুড় জিআই পণ্যের স্বীকৃতি লাভ করে।
চলতি মৌসুমে খেজুর গাছ প্রস্তুতের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২ নভেম্বর চৌগাছা উপজেলার হায়াতপুর গ্রামে। উদ্বোধন করেন ইউএনও শাহিনুর আক্তার।
শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার পতেঙ্গালী গ্রামে খেজুর গাছ কাটতে কাটতে গাছি টিপু সুলতান জানান, তাঁর নিজস্ব কোনো গাছ না থাকলেও লিজ নিয়ে ১৫০টি গাছে কাজ করছেন। মৌসুম শেষে লিজ ও ভাগ-দর বাদ দিয়েও দেড় লাখ টাকার মতো লাভের আশা করছেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন জানান, নিরাপদ ও মানসম্মত রস-গুড় উৎপাদনে গাছিদের নেটিং পদ্ধতি ব্যবহার, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং ম্যাকানিক্যাল ক্লাইম্বারের ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি আধুনিকায়ন প্রজেক্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যশোরে ৩ কোটি ৭১ লাখ লিটার রস এবং ২ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারদর অনুযায়ী রস, গুড় ও পাটালির সম্ভাব্য বাণিজ্যমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।


