যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এলাকায় নারী শিক্ষার্থীকে উত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার পর তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের গ্রাম থেকে মাইকিং করে লোকজন জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন যবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। পুরো ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ফটোকপি করতে গিয়ে উত্যক্ত, তারপর সংঘর্ষ
সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের পাশের বাজারে এক নারী শিক্ষার্থী ফটোকপি করাতে গেলে দোকানের পক্ষ থেকে তাকে ইফটিজিং করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দোকানিতে গিয়ে মারধর করেন। এতে বাজারের অন্য দোকানিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন।
এরপর স্থানীয়রা দলবেঁধে এলাকায় ঢুকে পড়লে শিক্ষার্থী ও তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশের তৎপরতা
খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানা ওসি। তিনি বলেন, উত্তেজনা কমাতে সকল পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ চলছে।
এর আগে জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন
দিনের শুরুতে যবিপ্রবির জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সাজিয়ালী মৌজার কৃষক ও এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেন। তাদের অভিযোগ, ২০০৫ সালে নামমাত্র মূল্যে জমি দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ন্যায্য মূল্য দেয়নি।
তারা আরও বলেন, পূর্বে পরিকল্পিত খালসংলগ্ন জমি বাদ দিয়ে এখন এক কিলোমিটার দূরের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নতুন করে জমি নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এতে খরচ বাড়ার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের সমস্যা ও উর্বর কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


