বগুড়া–৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াত সমর্থকদের হামলায় নন্দীগ্রামের থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা (মজিদ) গুরুতর আহত হয়ে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ছেলের দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবর শুনে শোকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন তার মা রাবেয়া বেওয়া (৬৫)। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তিনি প্রয়াত মোহাম্মদ আলী আকন্দের স্ত্রী।
আহত মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ বলেন, “বাবার চোখ নষ্ট হওয়ার খবর শুনেই দাদি হার্ট অ্যাটাক করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান।”
বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন জানান, হামলার পর মাসুদ রানাকে প্রথমে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবরটি ফোনে জানার পরপরই রাবেয়া বেওয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান।
হামলার পটভূমি
সোমবার রাতে পারশুন গ্রামে জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সালের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বেলাল হোসেন ও জামায়াত কর্মী ফারুক হোসেনকে ধানের শীষের সমর্থকেরা আটক করেন এবং মাসুদ রানার বাড়িতে রেখে পুলিশকে খবর দেন।
এর জেরে রাত ১২টার দিকে প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকেরা হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় মাসুদ রানা গুরুতর আহত হন এবং তার চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা বেলাল ও ফারুককে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
চিকিৎসকের বক্তব্য
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. পল্লব সেন বলেন, “মাসুদ রানা এক চোখের দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারিয়েছেন। জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, তাই তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।”


