লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ছয়টি ভোটের সিল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মারইয়াম প্রেসের মালিক সোহেল রানা (৪০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার নির্দেশে এসব সিল তৈরি করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লক্ষ্মীপুর আদালতে স্বীকারোক্তি দেন এবং নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ করেন। সোহেল রানা সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের পুরোনো আদালত রোডে অবস্থিত মারইয়াম প্রেসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছয়টি অবৈধ ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোনসহ তাকে গ্রেপ্তার করে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ গণমাধ্যমকে জানান, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সোহেল রানা বলেছেন—পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪) তাকে এসব সিল বানাতে নির্দেশ দেন। গত ৩০ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার পাওয়ার পর তিনি সিলগুলো তৈরি করেন।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে সৌরভ হোসেন আত্মগোপনে রয়েছেন। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী।
জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, “সৌরভ দাবি করেছেন তিনি ভোটারদের ‘ভোট দেওয়া শেখাতে’ সিল বানিয়েছিলেন। তবে এটি দায়িত্বহীন কাজ। তাছাড়া প্রেসমালিক সোহেল রানা আমাদের দলের সদস্য নন।”
এদিকে সিলসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, “এ ঘটনা নিছক ভুল নয়—এর পেছনে পরিকল্পিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং থাকতে পারে।”
পরে একই দিন রাতে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিম। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করছে।
ওসি ওয়াহেদ পারভেজ জানান, স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঘটনার উদ্দেশ্য ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দ আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।


